এটা ‘গ্র্যান্ড এরিয়া’ বলা হয়ে থাকে। পুরোনো ঢাকার গেন্ডারিয়া। জনশ্রুতি আছে, ইংরেজদের সময় এই এলাকাটা অভিজাত বলে খ্যাত ছিল। এজন্যই সবাই এ এলাকাকে গ্র্যান্ড এরিয়া বলতেন। অনেকে অবশ্য বলে থাকেন, এখানে প্রচুর আখ ক্ষেত বা গেন্ডারি ক্ষেত ছিল, সেজন্যও এমন নাম রাখা হতে পারে।  তারপর এলাকাটি খ্যাত দীননাথ সেনের জন্য। তিনি যেমন বিখ্যাত মানুষ ছিলেন তার পরিবারের সদস্যরাও খ্যাত। বিশেষ করে সুচিত্রা সেনের কথা কারও অজানা নয়। আর সাধনার নানান ফলজ মিশ্রণে ওষধ তৈরির কথা কে না জানেন।

সাধনার গলিতে প্রবেশ করলেই মউ মউ গন্ধে প্রাণ ব্যাকুল হয়ে ওঠে ‘সঞ্জবনী’ গন্ধে। কিন্তু এলাকাটিতে প্রবেশ করলে আরেকটি বিষয় লক্ষ্যণীয় দলে দলে ‘শাখামৃগ’।

বানরের পৌরাণিক নাম শাখামৃগ। আমজনতা তাকে বানর, বান্দর বলে ডাকে। এদের খাদ্যের বড় উৎস সাধনা কোম্পানির ফেলে দেয়া বর্জ্য। এর বাইরে আশপাশের ঘুরে বেড়ানো মানুষজন দলবেঁধে এখানে আসে তাদের দেখতে। খালি হাতে তো আর এসে লাভ নেই। সঙ্গে থাকে পাউরুটি আর কলা। হঠাৎ মনে হলো লকডাউনের দিনগুলোতে শাখামৃগরা কেমন আছে? ফটোগ্রাফার জীবন আহমেদকে আইডিয়া বলতেই হাজির সে। এক বিকেলে গিয়ে ঘন্টাখানেক তাদের দেখে বড্ড অসহায় লাগল। আগেও অনেকবার যাওয়া হয়েছে এই এলাকায়। তখন বানরের যে ধরণের হল্লা বা লাফালাফি দেখেছি তা এখন অনেকটাই কম। অনেক বানরকে দেখে মনে হয়েছে, তাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মিলছে না। সঙ্গে নেয়া পাউরুটি ছিটিয়ে দিলে, চার পাাঁচটি বানর গেটে ভিড়লো।  সাধনা কোম্পানি থেকে বানর দল যে ধরণের খাবার পেতো তার বাইরের সব তো বন্ধ। কাজেই সাধনার গলির দেয়াল আর ছাদে অসহায় পায়চারি ছাড়া তাদের আর কিছু করার নেই। এই লকডাউনে ভরসা কেবল ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা।  

সাধনা ঔষধালয়ের নিরাপত্তাকর্মী সালাম জানালেন, এখানে প্রায় দুই থেকে আড়াইশো বানরের বাস। তারা এ এলাকাতেই বিচরণ করে। প্রায় প্রতিদিনই এখানে কিছু ভিজিটর আসেন যারা নানান রকমের খাবার নিয়ে আসে তাদের জন্য। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ। তাতে তারা কষ্টে আছে।

সাধনার গেটেই থাকা বড় বিক্রয় কেন্দ্রের কবিরাজ চিত্তরঞ্জন দাসও একই কথা জানালেন। বললেন, এখন লোকজন কমে গেছে। লকডাউনে সবাই ঘরের ভেতরে কাজেই তাদের কাছে কম ভিড়ছে।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031