প্রধান বিচারপতির পদ রাষ্ট্রপতি শিগগির পূরণ করবেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সুরেন্দ্র কুমার সিনহার পদত্যাগে ফাঁকা হওয়া পদ। তবে এ ব্যাপারে দিনক্ষণ জানাতে পারেননি তিনি।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে জেষ্ঠ্য সহকারী জজ এবং সমপর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান আইনমন্ত্রী।

এক মাসের ছুটি নিয়ে দেশের বাইরে গিয়ে দেশে না ফিরে ১০ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের মাধ্যমে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ গত ১৪ নভেম্বর সেই পদত্যাগপত্র অনুমোদন করলেও সেটি কার্যকর হয়েছে ১০ নভেম্বর থেকেই।

সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি এবং তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বাধ্য নন।

কিন্তু আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রপতি তার সিদ্ধান্ত জানাননি। আর ১ নভেম্বর থেকে সিনহার ছুটি কার্যকর হওয়ার দিন থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেব দায়িত্ব পালন করছেন আবদুল ওয়াহহাব মিয়া।

এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদের মেয়াদ শেষের ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে আজ ২৪ জানুয়ারি থেকে। তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৩ এপ্রিল। ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই পদে নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

‘রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, প্রধান বিচারপতির পদও খালি। কোনটাকে আপনারা প্রাধান্য দিচ্ছেন?’- এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সব নিয়োগ হবে। মহামন্য রাষ্ট্রপতি খুব শিগগিরই নিয়োগ দেবেন। সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রপতির এখতিয়ার।’

সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং প্রধান বিচারপতির সহিত পরামর্শ করিয়া রাষ্ট্রপতি অন্যান্য বিচারককে নিয়োগদান করিবেন।’

তবে সংবিধানে প্রধান বিচারপতি অবসরে গেলে বা পদত্যাগ করলে কতদিনের মধ্যে নিয়োগ দিতে হবে তার কোনো উল্লেখ নেই।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে একবার ১৩ দিন দেরিতে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার নজির আছে। সেটি হয়েছিল ১৯৯০ সালে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালে। ১৯৯০ সালের ১ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী অবসরে যান। এরপর ১৪ জানুয়ারি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও আইনমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা। আওয়ামী লীগ কাকে মনোনয়ন দেবে, এমন প্রশ্নে অবশ্য কারও নাম বলেননি তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি। মনোনয়ন বোর্ডেই সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে। আমি ওই বোর্ডের সদস্য নই।’

অপর এক প্রশ্নে জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আগামী বাজেট অধিবেশনে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে আইন পাস হতে পারে।

বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন আইন সচিব আবু সালেহ শেখ মোহাম্মাদ জহিরুল হক।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031