শুরু হচ্ছে না চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট-শাহআমানত সেতু সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ। মন্ত্রী পরিষদের অনুমোদন মিলেছে। ঠিকাদার নিয়োগও চুড়ান্ত।এ কাজের জন্য দাতা দেশ কুয়েতের অনাপত্তি পত্র পায়নি সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

সওজ বিভাগের চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদুল আলম বলেন, সড়কটি ফোরলেন করার সবকিছু চ‚ড়ান্ত। মন্ত্রিপরিষদের ক্রয় কমিটির অনুমোদনও পাওয়া গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। তবে এ কাজের জন্য যে জিনিসটি লাগবে সেটি হচ্ছে কুয়েত সরকারের অনাপত্তি পত্র। সেটি এখনো পায়নি। এই অনাপত্তি পত্রের জন্য কুয়েত সরকারের চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, অনাপত্তি পেলে ঠিাকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হবে। সবকিছু যদি ঠিকঠাক হয় তবে চলতি বছরের শেষের দিকে সড়ক সংস্কারের কাজে নামতে পারবে ঠিকাদার। যা শেষ হতে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

সওজ বিভাগ, চট্টগ্রাম কার্যালয় সূত্র জানায়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দরপত্র আহবান ও মূল্যায়ন নিয়ে কেটে গেছে ছয় বছর। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান চ‚ড়ান্ত করা হয়েছে। এখন কার্যাদেশ দেওয়ার অপেক্ষায় আছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দেশি-বিদেশি চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নিয়েছিল। ডবিøউএমসিজি-মীর আকতার-সাডিম আল কুয়েত জেভি নামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটির সর্বনিম্ম দরদাতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩১০ কোটি টাকা।

প্রকল্পের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, দুই অংশে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম অংশে নদীর উত্তরে বহদ্দারহাট থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। পাশে আরও দুই লেনের জায়গা নিয়ে করা হবে ফুটপাত ও নালা। এ ছাড়া চারটি বড় সেতু নির্মাণ, রাহাত্তারপুল ও কালামিয়ার বাজারে দুটি আন্ডারপাস নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে। দ্বিতীয় অংশ হবে নদীর দক্ষিণে তিন কিলোমিটার সেতুর সংযোগ থেকে তেমুহনী মোড় পর্যন্ত। এই অংশটিও চার লেনে উন্নীত করা হবে।

সূত্র আরও জানায়, চার লেন হওয়ার আশ্বাসে গত ৬ বছর ধরে কোন রকম সংস্কারকাজ হয়নি বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়কের। ফলে ছিন্নভিন্ন সড়কে যান চলাচলে ভোগান্তি বেড়েছে চালক ও যাত্রীদের।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাত উপজেলা ও কক্সবাজার, বান্দরবানের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে নির্মাণ করা হয়েছিল শাহ আমানত সেতু (তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু)। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, শিগগির সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক চার লেন করা হবে। এদিকে সেতুর পাঁচ কিলোমিটার উত্তরে বহদ্দারহাটে নির্মাণ করা হয় চট্টগ্রামের প্রথম উড়ালসড়ক। দুই বছর আগে উড়ালসড়কও যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু সেতু ও উড়ালসড়কের মাঝখানের দুই লেনের সড়কটি ছয় বছরেও চওড়া হয়নি। ফলে উড়ালসড়কের সুফলও পাচ্ছে না এ জনপদের মানুষ।

সরেজমিনে দেখা যায, পাঁচ কিলোমিটার সড়কটির শুরু এক কিলোমিটার নামক স্থান থেকে। শেষ হয়েছে শাহ আমানত সেতুর উত্তর অংশের মুখে। এই পথ পুরোটাই এখন ভাঙাচোরা। গাড়ি চলাচলের সময় সমানে উড়ছে ধুলাবালু। তার ওপর ভাঙা সড়কের ঝাঁকুনি। নাকেমুখে কাপড় গুঁজে ধুলা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা যাত্রীদের। এর মধ্যে রাহাত্তারপুল ও কালামিয়ার বাজার মোড়ে পিচ ঢালাইয়ের অস্তিত্ব নেই। সেখানে ইট বিছিয়ে গাড়ি চলাচলের উপযোগী করে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ফুলকলি, তুলাতলী ও কল্পলোক আবাসিক এলাকাও ছোট-বড় গর্তে ভরা। দুর্ভোগ এড়াতে গাড়িচালকদের অনেকে বিকল্প হিসেবে এখন কর্ণফুলীর ক‚ল ঘেঁষে নির্মিত নতুন মেরিনার্স সড়কটি ব্যবহার করছেন।

কালামিয়া বাজারে কথা হয় টমটম চালক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় গাড়ি চলাতে সমস্যা হচ্ছে। বর্ষাকালে বড় গর্ত তৈরি হয়েছিল। এখন সেখানে ইট বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

রাহাত্তারপুর এলাকার বাসিন্দা রাজু আহমেদ বলেন, ছয়-সাত বছর ধরে শুনে আসছি সড়কটি চার লেন হবে। কিন্তু উড়ালসড়ক ও শাহ আমানত সেতু চালু হলেও সড়কটি দুই লেন রয়ে গেছে। এ ছাড়া সড়কের কোনো সংস্কার নেই। এই সড়কটি আদৌ চওড়া হবে কি না, এ নিয়ে সন্দেহ আছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটের যাত্রীবাহী বাসের চালক মনির আহমদ বলেন, সিটি করপোরেশনের কাছে বহদ্দারহাট-শাহ আমানত সেতু সড়কটি হস্তান্তর করা উচিত। করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে থাকলে দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে গাড়ি চলাচলের উপযোগী রাখত সিটি করপোরেশন। রাস্তাটিও মোটামুটি ভালো থাকত।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031