বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে পারস্পারিক উদ্বেগ ও অগ্রাধিকার সম্বন্ধে বোঝাপড়াকে সমৃদ্ধি করতে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন । তিনি আশা করছেন তিস্তা-গঙ্গার পানি সমস্যা দ্রুত সমাধান করবে ভারত।

মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রাণ দেয়া ভারতীয় সেনাদের স্মরণে শনিবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ আশা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে ভারতীয় সাত সেনার পরিবারের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিস্তা, পদ্মা-গঙ্গা ব্যারেজ পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি এসব ইস্যু ভারত দ্রুত সমাধান করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশি দেশ এবং উন্নয়নের অন্যতম অংশীদারী একটি রাষ্ট্র। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অমূল্য অবদানের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যারা শহীদ হয়েছিলেন তাদেরকে সম্মান জানাতে পেরে সত্যিই আজ আমরা অনেক খুশি। মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার স্বীকৃতির জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাচ্ছি। ভারত সে ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

হাসিনা বলেন, ভারত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রশংসা অর্জন করেছে এবং শিক্ষা, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং নতুনত্বের ক্ষেত্রে পরাশক্তি দেশ হিসেবে দ্রুত আবির্ভাব হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশের উপরে। আমরা সহসাব্দ্র উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) অর্জনে বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সীমান্তে শান্তি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড মুক্ত রাখতে আমরা উভয় দেশই বারবার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছি। সন্ত্রাস এবং উগ্রবাদের ক্ষেত্রেও আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ রয়েছে।

হাসিনা বলেন, আজ সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আমার ফলপ্রসু বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে আমরা একত্রে বসেছিলাম। পারস্পারিক উদ্বেগ ও অগ্রাধিকার সম্বন্ধে আমাদের বোঝাপড়াকে সমৃদ্ধি করতে সব ধরনের আলোচনা হয়েছে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, মোদি এবং আমি সম্মত হয়েছি যে, উন্নয়নের জন্য দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ (কানেক্টিভিটি) খুব গুরুত্বপূর্ণ। খুলনা-কলকাতা রুটে বাস সার্ভিস চালু করেছি। এছাড়া এই রুটে পরীক্ষামূলকভাবে মৈত্রী এক্সপ্রেস-২ চালু করা হয়েছে এবং বিরল-রাধিকাপুর রেল রুট পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশি পাট ও পাটজাত পণ্য আমদানিতে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের বিষয়টি পর্যালোচনা করতে মোদি এবং আমার মধ্যে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যে ভারসাম্য আনতে বাংলাদেশের মধ্যে ভারতের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের জন্য আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ ও ব্যবসাকে উন্নীতকরণে অন্যান্য ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলেও জানান হাসিনা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেও আমাদের ভালো সহযোগিতা রয়েছে। ত্রিপুরা থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। নেপাল ও ভূটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031