নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ব্যর্থতা ও কারাগারগুলোর শোচনীয় পরিস্থিতির কথা উঠে এসেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার বিষয়ক বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ। প্রতি বছর এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র । বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) ‘২০১৯ কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিসেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনটির বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, সংবিধান ও আইনে নির্যাতন বা অন্যধরনের নির্মম, অমানবিক আচরণ বা শাস্তি নিষিদ্ধ থাকলেও নিরাপত্তাবাহিনীর বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বলা হয়েছে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগটঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোয় গোয়েন্দা বিভাগ ও পুলিশসহ নিরাপত্তাবাহিনীগুলো এসব কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। আরো বলা হয়েছে, অভিযুক্ত জঙ্গি ও রাজনৈতিক বিরোধীদলগুলোর সদস্যদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ের জন্য নির্যাতন চালিয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে যে, নিরাপত্তাবাহিনী হুমকি, মারধর, হাঁটুতে আঘাত করা (নিক্যাপিং; সাধারণত গুলি করে এধরনের আঘাত করা হয়), বৈদ্যুতিক শক দেয়া এবং মাঝে মাঝে ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন নির্যাতনও করেছে। গত বছরের আগস্টে জাতিসংঘের নির্যাতন বিরোধী কমিটি (সিএটি) বাংলাদেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিস্তৃত পরিসরে নির্যাতন ও অসদাচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, স্বীকারোক্তি উদ্ধার বা ঘুষের অর্থ আদায়ের জন্য এসব নির্যাতন করা হয়ে থাকে। প্রতিবেদনটিতে নির্যাতনের ঘটনাগুলো নিয়ে জনসাধারণের জন্য প্রকাশিত তথ্যের ঘাটতি এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে, বিশেষ করে র‌্যাবের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরা হয়।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার অনুসারে, গত বছরে জুনে তাহমিনা বেগম নামের এক নারী নরসিংদীর গোয়েন্দা বিভাগের বিরুদ্ধে তার ছেলে সোহেল মিয়াকে আটকে রেখে তার কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031