আসিফ (ছদ্মনাম) ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর একমাত্র পুত্র। পিতার অগাধ সম্পত্তি। গ্যারেজে গাড়িও অনেক। সবগুলো ব্র্যান্ডের। বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ, অডিসহ আরো নানা গাড়ি রয়েছে তাদের। হাই সিসির সিডান কারের পাশাপাশি আছে সাড়ে ৫ হাজার সিসির জিপও।

আসিফের শখ গাড়ি চালানো। শুধু চালানো নয়, রীতিমতো দাবড়ানো। একেবারে ‘ফর্মুলা ওয়ান’এর মতো সিনে স্টাইলে গাড়ি চালিয়ে রোমাঞ্চ অনুভব করেন তিনি। নিশুতি রাতে হাই সিসির গাড়ি নিয়ে বের হন। এরপর আর পেছনে তাকান না। এক্সেলেটর পুরো চেপে ধরে উল্কার গতিতে উড়তে চান। কিন্তু নগরীতে রাস্তা নেই। গাড়ি ছুটিয়ে শান্তি পাচ্ছেন না তিনি। টোল রোডে প্রায়শ তিনি দেড়শ কিলোমিটার স্পিডে গাড়ি চালান। বন্ধুরাও যোগ দেয় তার সাথে। সদলবলে উল্কার বেগে গাড়ি নিয়ে তারা গতির প্রতিযোগিতায় নামেন। আসিফের জন্য এবার নতুন ট্রেক হয়েছে নগরীতে সদ্য চালু হওয়া আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভার। আসন্ন ঈদে এই ফ্লাইওভারেই ফর্মুলা ওয়ানের ট্রেক বানানোর ব্যবস্থা করছেন তিনি। শুধু আসিফ নন, তার সাথে আছেন আরো কয়েকজন বন্ধু। সবাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। তাদের প্রত্যেকের গ্যারেজে অনেকগুলো দামি গাড়ি আছে। বিকট শব্দে তীব্র গতিতে গাড়ি চালানোই তাদের একমাত্র বিনোদন। এই ধরনের আরো কিছু কিশোরযুবক ঈদের সময় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে ‘ফর্মুলা ওয়ান’এর ট্রেক তৈরি করবেন।

বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে অভিভাবকদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। ফেইসবুকেও লেখালেখি হচ্ছে। কার ছেলে কখন গিয়ে কোন অঘটন ঘটায়, তা নিয়ে অনেকেই শংকিত। টোল রোডে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর নিদারুণ ফল ইতোমধ্যে নগরবাসীকে বেদনার সাথে প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে।

ফ্লাইওভারে স্পিড লিমিট থাকে। ইচ্ছেমতো গাড়ি চালানোর সুযোগ থাকে না। তাছাড়া আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারে ষোলশহর দুই নম্বর গেট থেকে মুরাদপুরের দিকে যেতে বিপদজ্জনক বাঁক রয়েছে। এখানে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালালে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। ফ্লাইওভারে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তাতে শুধু চালকই নয়, নিচের পথচারী, দোকানপাট কিংবা বাসিন্দারাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং উৎকণ্ঠিত অভিভাবকদের পক্ষ থেকে পুলিশি হস্তক্ষেপও কামনা করা হয়েছে।

নগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল বাহার চৌধুরী গতকাল আজাদীকে বলেন, ফ্লাইওভারে ফর্মুলা ওয়ানের ট্রেক বানানোর কোনো সুযোগ নেই। ফ্লাইওভারটি এখনো নির্মাণাধীন। এটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি, হস্তান্তর হয়নি। হস্তান্তর এবং আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেই পুলিশের সাথে সমন্বয় করে গাড়ি চলাচলের ব্যাপারটি ঠিক করা হত। তবে আমরা কোনো ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনকে ফ্লাইওভারে উঠতে দেব না।

রাতেও রাস্তায় পুলিশ থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা পুলিশ নস্যাৎ করে দেবে। তিনি বলেন, জনসচেতনতা খুবই জরুরি। অভিভাবকেরা যদি তাদের সন্তানদের সচেতন না করেন, সেক্ষেত্রে কেবল পুলিশের তৎপরতায় অঘটন রোধ করা কঠিন। তিনি ঈদে অভিভাবকদের সন্তানদের গতিবিধির ওপর নজর রাখার পরামর্শ দেন।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031