একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যশোর-বেনাপোল সড়কের শতবর্ষী গাছ কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন ।

রবিবার স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শেখ মো. মহিবুল্লাহর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান রেজিস্ট্রি ডাক যোগে নোটিসটি পাঠান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

সড়ক ও জনপথ সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খুলনার ডিসি ও যশোরের পুলিশ সুপারকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে নোটিশে।

আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, যশোর-বেনাপোল সড়কের দুই হাজারের বেশি গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই গাছগুলো দেশের এতিহ্য। এছাড়া গাছ পরিবেশ রক্ষা করে।  সংবিধানের ১৮ (ক) তে বলা আছে, সরকার বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই গাছ কাটার এ সিন্ধান্ত সংবিধানের সঙ্গে সাংর্ঘষিক।’

যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেন  করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সড়ক বিভাগ এরই মধ্যে দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। গত ৬ জানুয়ারি এ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বিশেষ সভায় সড়ক চওড়া করতে দুই ধারের গাছগুলো কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা করছেন কেউ কেউ। তাদের দাবি, গাছ না কেটেও সড়ক চওড়া করা সম্ভব।

তবে সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, গাছ রেখে সড়ক চওড়া করতে হলে সড়কের পাশে বিপুল পুরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। বন্দর এলাকায় জমির দাম বেশি বলে সড়ক নির্মাণের খরচ ‘অবিশ্বাস্য রকম’ বেড়ে যাবে। আবার এর ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষের বাড়িঘর ও বাজারও ভাঙতে হবে।

আবার শতবর্ষী যেসব গাছের কথা বলা হচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগই রেইনট্রি। এর সংখ্যাও এত বেশি না। এগুলোর আয়ু ২০০ বছরের মতো। আর এরই মধ্যে পৌনে দুইশ বছর হয়ে গেছে। এসব বিবেচনাতেই গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক যথাযথমানের ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় রাস্তার দুই পাশের গাছসমূহ অপসারণের বিষয়ে এ মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, মহাসড়কটির দুই পাশে নতুন-পুরনো অনেক গাছ রয়েছে। সেগুলো রেখে মহাসড়ক চারলেন করা সম্ভব নয়। সে কারণে জনস্বার্থে গাছ কাটতে হবে।

সভায় গাছ কাটার ব্যাপারে উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ দ্বিমত করেননি। রাস্তা নির্মাণের পর দুই ধারে নতুন করে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় তিন সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, শেখ আফিল উদ্দিন ও মনিরুল ইসলাম, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবদুল মালেক ও বেলায়েত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Share Now
September 2026
M T W T F S S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930