রবিবার রাত ১০টা। যাত্রী বোঝাই করে বিশ্ববিদ্যালয় এক নম্বর থেকে জিরো পয়েন্টের দিকে রওনা দিল একটি সিএনজি অটোরিকশা। চালকের আসনে তাকাতেই চোখে পড়ল অল্প বয়সী একজনের দিকে। সে এই রাস্তায় ১০-১৫ দিন আগেও চালকের পাশে বসে ড্রাইভার শিখতে চেষ্টা করেছিল। সে কিনা এখন ড্রাইভার!

সিএনজি অটোরিকশা রওনা দিতেই আরেকটি সিএনজি ভারার জন্য যাত্রী ডাকতে লাগল এক চালক। সেও অল্পবয়সী একজন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সড়কে এমন চিত্রই এখন ‘কমন’।

একদিকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক-অপরিপক্ক চালক, অন্যদিকে লাইসেন্সবিহীন বাহনে চলে ‘আগে পৌঁছানোর’ প্রতিযোগিতা। যে সিএনজি আগে গন্তব্যে পৌঁছাবে, সে আবার যাত্রী বোঝাই করে আগে ফিরে এসে সিরিয়াল রাখতে পারবে। আর এ জন্যই চলে তাদের বেপরোয়া গতির ‘রেস’। ফলে বেপরোয়া গতির কারণেই চবিতে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কোনো বিকল্প গণপরিবহন না থাকায় এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে এসব বাহনে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ফলে কেড়ে নিচ্ছে মূল্যবান জীবন, আহত হয়ে পঙ্গু হচ্ছে অনেকে। কিন্তু এসব দেখার যেন কেউ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও টনক নড়ছেনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র মতে, ২০১৬ সালে নভেম্বর পর্যন্ত অটোরিকশার ধাক্কায় নিহত হয়েছেন একজন। একইভাবে গুরুতর আহত হয় তিন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

গত অক্টোবর মাসে সিএনজি চালিত অটো রিকশার ধাক্কায় গুরুতর হয়ে মেডিকেলে মৃত্যু হয় সুমিত মিত্রের। তিনি চবির আইন অনুষদের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া ৫ নভেম্বর রাতে সিএনজি অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় তামজিদ হোসেন। পরে ওইদিন রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি করানো হয় তাকে। তিনি বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আজও তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছেন।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসেও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শিপন কান্তিও বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারে সিএনজি অটোরিকশায় ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। তাকেও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে শিপনকে দেখতে গিয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য শিরীণ আক্তার ও সহকারী প্রক্টররাও।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিএনজি অটোরিকশার চালক ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সম্পাদক খোরশেদ আলম ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘অল্পবয়সীরা যে সিএনজি অটোরিকশা চালায় এটা কিন্তু ঠিক না। হয়তো কয়েকজনই চালান। এমনকি চালকরা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বলেও দাবি করেন তিনি।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ার চৌধুরী বলেন, ‘এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনকে আমরা অনেকবার বলেছি। চালক ইউনিয়নকেও কয়েক দফা সতর্ক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিতরে ঘণ্টায় যদি ২০ কিলোমিটার বেশি জোরে চালায় সঙ্গে সঙ্গে আমাদের কাছে ইনফর্ম করতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করছি।’

শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সিএনজি অটোরিকশার বিকল্প যানের ব্যবস্থা করা হচ্ছেও বলে জানান তিনি।

হাটহাজারী থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গির ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো যানবাহনে অনিয়মের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। এমনকি নিয়মিত মামলাও দেয়া হচ্ছে।’

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031