অং সান সু চির ভূমিকা নিয়ে বেশ সমালোচনা চলছে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনাবাহিনীর অভিযানের প্রেক্ষাপটে । কারণ তিনি তার সরকারের পক্ষে সাফাই দিয়ে বলছেন, রাখাইনে ‘রোহিঙ্গা সন্ত্রাস’দের বিরুদ্ধে এই সেনা অভিযান।

বুধবার মায়ানমার সরকারের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নেবেন না। চলতি মাসেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে। আর এমন প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগছে অং সান সু চি আসলে তার দেশে কতটা ক্ষমতা রাখে?

অং সান সু চি’র সরকারি পদবী হচ্ছে ‘রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা’। তিনি এই পদ সৃষ্টি করেছেন, সংবিধানের একটি বিশেষ ধারাকে কেন্দ্র করে যে ধারাটা মূলত তৈরি করা হয়েছিল তাকেই লক্ষ্য করে। কারণ মায়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী কারো স্বামী বিদেশি হলে বা বিদেশি নাগরিকত্ব আছে এমন কোনো ব্যক্তি দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না।

মায়ানমারের অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনীতিক অং সান সু চি এবং ২০১৫ সালে দেশটির জাতীয় নির্বাচনে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি বাএনএলডির বিপুল জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। মন্ত্রিসভা এবং তার দলের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রীর দায়িত্বেও আছেন মিস সু চি। দেশটির প্রেসিডেন্ট তিন কিয়াউ মিস সু চি’র কাছে জবাব দিতে হয়।
দেশটির সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল পূর্ববর্তী সামরিক সরকারের আমলে।

১৯৬২ সাল থেকে শাসন ক্ষমতায় ছিল এই সামরিক সরকার । ২০০৮ সালে অবিশ্বাস্য এক গণভোটের মাধ্যমে এই সংবিধানের অনুমোদন দেয়া হয়। সে সময় সংবিধানের এই অনুমোদনে মিস সু চি কিংবা তার দল এনএলডির কোনো সায় ছিল না।

সেনাবাহিনী ঘোষিত ‘ডিসিপ্লিন-ফ্লোরিশিং ডেমোক্রেসি’র পরিকল্পনা নিশ্চিত করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। এছাড়াও সংবিধানের এই সংশোধনীর আওতায় সংসদের এক চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়।

তিন কিয়াউ মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট হলেও অং সান সু চি’র কাছে তাকে জবাব দিতে হয়। স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা এবং সীমান্তসহ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রেখেছে সেনাবাহিনী। এর অর্থ হচ্ছে দেশটির পুলিশের ওপরও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেনাবাহিনীর।

শক্তিশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষদের ১১টি আসনের মধ্যে ছয়টি আসনেও রয়েছে সেনাবাহিনী মনোনীত ব্যক্তিরা। গণতান্ত্রিক সরকার বাতিলের ক্ষমতা রয়েছে এই পরিষদের। অনেক শীর্ষস্থানীয় পদের দখল করে আছেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তারা। সেনাবাহিনীর ব্যবসায়িক স্বার্থও রয়েছে। স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাতের যৌথ বাজেটের চেয়েও ১৪ শতাংশ বেশি ব্যয় হয় প্রতিরক্ষা খাতে।

২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সেনাবাহিনী এবং সু চি’র অবস্থান ছিল তীব্র পরস্পরবিরোধী। মিস সু চি ১৫ বছর গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মিন অং হেইং এটা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, রোহিঙ্গাদের জন্য তার সহানুভূতি নেই। নির্বাচনের পর তারা একসঙ্গে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করেন। জনসমর্থন ছিল তার।

মায়ানমারের জেনারেলদের হাতে ছিল আসল ক্ষমতা। সংবিধান সংশোধনের মতো সু চি’র অনেক চাওয়ার সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতৈক্য রয়েছে। গত ৭০ বছর ধরে মায়ানমারের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সীমান্তে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনা নিয়েও সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিভেদ আছে।

তবে তারা অর্থনৈতিক সংস্কার, উন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে একমত। মিস সু চির জনপ্রিয় ‘মন্ত্র’ হচ্ছে ‘আইনের শাসন।’ একই সঙ্গে দেশটিতে দ্রুত পরিবর্তনের কারণে সামাজিক উত্তেজনাও বাড়ছে।

সূত্র: বিবিসি।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031