সরকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের গাড়ি বিনা টোলে সেতু পারাপারের চিন্তা করছে। গতকাল বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১১তম বোর্ড সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। সভায় বোর্ড চেয়ারম্যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বাংলাদেশ জাতীয় খেতাবপ্রাপ্ত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমান্ড এ বিষয়ে আবেদন করে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন তিন বৃহৎ সেতুতে সুবিধাটি দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। যুদ্ধাহত বা খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, মৃত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের বহনকারী গাড়িগুলো এ সুবিধা পাবে। সেতু কর্তৃপক্ষ গতকাল বোর্ড সভায় জানায়, সেতু কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ১৯৮৫-এর ১০ (২) (ছ) ধারা অনুযায়ী সব গাড়ি থেকে টোল আদায় করা হয়। এখন বিনাটোলে গাড়ি পারাপারের সুযোগ দিতে হলে অধ্যাদেশের ধারা পরিবর্তন করতে হবে।

এর আগে সেতু কর্তৃপক্ষের ৯৯তম বোর্ড সভায় বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। তবে সেখানে সিদ্ধান্ত হয়- ‘যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বহনকারী গাড়িসমূহ এবং লাশ বহনকারী আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের অ্যাম্বুলেন্সকে সেতু বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন সেতুসমূহ পারাপারের ক্ষেত্রে টোল প্রদান থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই।’

বর্তমানে সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন বঙ্গবন্ধু সেতু এবং মুক্তারপুর সেতুতে সরকার নির্ধারিত হারে যানবাহনের টোল আদায় করা হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু সেতুতে একমাত্র রাষ্ট্রপতির যানবাহন ছাড়া সব গাড়ির টোল দিতে হয়। সেতু বিভাগের অধীনে জুনে চালু হওয়ার কথা পদ্মা সেতু। এ তিন সেতুতেই বিনাটোলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গাড়ি পারাপারের চিন্তা করা হচ্ছে।

বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ইস্যু করা পরিচয়পত্রে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধারা সরকারি পরিবহন রেলওয়ে, বিআরটিসির বাস এবং জলযানে বিনা ভাড়ায় চড়তে পারেন। বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ প্রতি রুটে বছরে একবার এবং আন্তর্জাতিক যে কোনো রুটে ইকোনমি ক্লাসে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারসহ বিনা ভাড়ায় বছরে দুবার ভ্রমণ করতে পারেন। পরিচয়পত্র দেখিয়ে শুধু যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বহনকারী গাড়ি ফেরি এবং অন্যান্য সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন সেতুতে টোলফ্রি চলাচল করতে পারছে। তারা ফেরিতে ভিআইপি কেবিনও ব্যবহার করতে পারছেন। পর্যটন করপোরেশনের হোটেল/মোটেলে বিনা ভাড়ায় দুই রাত বছরে একবার এবং জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় সপরিবারে ৪৮ ঘণ্টা থাকতে পারবেন। রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে টোলফ্রি যাতায়াতে অনুমতি দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এসব তথ্য যুক্ত করে সেতু কর্তৃপক্ষ তাদের তিন সেতুতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিনাটোলে যাতায়াতের সুযোগ দিতে প্রস্তাব উত্থাপন করে। তবে পরিবারের সব সদস্যকে এ সুবিধা দিতে হলে কীভাবে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে গতকালের বোর্ডসভায়। সবশেষে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।#

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031