প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় সাত মাস আটকে রেখে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত বাদল মিয়া টাঙ্গাইলের সখীপুরে। শনিবার সকালে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. মাহবুব আলম পিপিএম সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান। শুক্রবার মির্জাপুর বাজার থেকে ডিবি পুলিশের একটি দল বাদলকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ওই কলেজ ছাত্রীকে ৬ মাস ১৮দিন আটকে রেখে নিয়মিত ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, মেয়েটিকে উদ্ধারের তিন মাস আগে থেকেই বাদল মিয়া ওই মেয়েটির সঙ্গে দেখা করা বাদ দেয়। এই তিন মাস বাদলের অন্য কোন সহযোগী মেয়েটিকে খাবার সরবরাহ করতো। পুলিশ ওই সহযোগীদের খোঁজ করছে। প্রয়োজনে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানায় পুলিশ।
এর আগে বাদল মিয়া প্রতিবেশী এক কলেজ ছাত্রীকে তার প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে গত ১১ই জানুয়ারি ভোরে পরিত্যক্ত একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে ওই ছাত্রীকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ ও নেশা জাতীয় খাবার খাইয়ে দীর্ঘ ছয় মাস ১৮ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। পরিবারের বদনাম হওয়ার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে মেয়েটিকে নিষেধ করে সে। পরে ৩০শে জুলাই রোববার বিকেলে কয়েকটি শিশু খেলতে গিয়ে কান্নার শব্দ শুনতে পায়। পরে তারা নির্যাতিতা মেয়েটিকে ঘরের মধ্যে আটক অবস্থায় দেখতে পায়। শিশুরা বড়দের বিষয়টি জানালে পরিবার ও স্থানীয়রা ঘরের তালা ভেঙে জীর্ণশীর্ণ ও অসুস্থ অবস্থায় ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করে। ৩১শে জুলাই সোমবার রাতে নির্যাতিতা মেয়েটির ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে সখীপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ধর্ষক বাদল সখীপুর উপজেলার রতনপুর কাশেম বাজার গ্রাম নিবাসী দরবেশ আলীর ছেলে।

প্রসঙ্গত, বুধবার মানবজমিনে’র শেষের পাতায় ‘সখীপুরে সাত মাস আটকে রেখে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসী ও প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930