অবস্থা বেহাল খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনির তালতলা-কাশিমনগর সড়কটির। সড়কটির বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় সড়কটি। মাত্র কয়েক বছরেই সড়কটি চলাচলের অনেকটা অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার এই বেহাল দশার জন্য বিভিন্ন ইট ও টালি ভাটার মাটিবাহী ট্রাক-ট্রলি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপকরণবাহী ট্রাকের অবাধ চলাচলকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

ইতিমধ্যে সড়কের পুরো অংশে বড় বড় ফাটল ধরেছে। দেবে গেছে অর্ধশতাধিক স্থান। বিভিন্ন অংশের পিচ ওঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কোথাও কোথাও চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবুও থেমে নেই ট্রাক-ট্রলির অবাধ চলাচল।

বিভিন্ন সময় স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে সড়কটি নিয়ে সংবাদ প্রচার হলেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ট্রাক-ট্রলির চলাচল বন্ধে কার্যত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। রাস্তাটির সংস্কারেও নেই কোনো পদক্ষেপ। এমন পরিস্থিতিতে চলতি ইট-ভাটা মৌসুমে যেকোনো সময় সড়কটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার পাশাপাশি বন্ধ হতে পারে বিস্ত্রীর্ণ জনপদের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা।

খুলনার ডুমুরিয়া, পাইকগাছা ও সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত সালতা নদীর ওপারে ডুমুরিয়ার মাগুরখালী। আর এপারে পাইকগাছার তালতলা এলাকায় নবনির্মিত ব্রিজের একমাত্র অ্যাপ্রোচ সড়ক ভায়া তালতলা-কপিলমুনি ভায়া কাশিমনগর বটতলা ৫৮৬০ মিটার সড়কটি। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকার ও জাইকার যৌথ অর্থায়নে পাঁচ কোটি ৫১ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৬ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়।

সড়কটি নির্মাণের পর থেকে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের উপকরণবাহী ভারী ১০ চাকার ট্রাক অবিরাম চলছে। গেল দুই বর্ষা মৌসুমে সড়কটির বিভিন্ন অংশে শতাধিক স্থানে এক থেকে দেড় এমনকি দুই ফুট পর্যন্ত দেবে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। নির্মাণের মাত্র চার বছরের মধ্যে সড়কটি চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের মান, ইট ও টালি ভাটা কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবাধ সড়ক শাসনকেই দুষছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সড়কটি নির্মাণের পর থেকে প্রতিদিন দুই উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের চলাচলের রাস্তা এই সড়কটি। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে এখন ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহনগুলো।

স্থানীয়রা জানান, ভাটা মালিকদের সাথে গোপন যোগসাজশে স্থানীয় প্রভাবশালীরা এসব অবৈধ যান চলাচলে তাদের সুযোগ করে দেয়। আর এই সুযোগে ইট ও টালি ভাটার মালিকরা তাদের প্রধান কাঁচামাল মাটির জোগান পেতে সড়কের পাশের নাছিরপুর, কাবুলিয়া, তালতলা ও ফটিকমারি সরকারি খালের নাব্য হ্রাস পাওয়ায় সেখান থেকে মাটি কেটে নেয় অবাধে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন সদস্য মো. রফিফুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ভাটা মালিকরা খাস খাল থেকে মাটি কেটে এই সড়ক দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে তাদের বারবার নিষেধ করা হলেও তারা তা মানছে না। তিনি এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930