বিএনপি হতাশ বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে । সরকার প্রধানের অবস্থান দেশকে সংকটের ভেতর ফেলে দেবে বলেও মনে করেন তিনি।

সরকারের চার বছর পূর্তিতে এই ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নির্বাচনকালীন সরকারের দাবি পরোক্ষভাবে নাকচ করেছেন। বলেছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী। এর এখানেই হতাশা বিএনপির।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সবাইকে আশাহত করেছে। জাতি হতাশ। এটি দেশকে নতুন করে সংকটের দিকে নিয়ে যাবে।’

শুক্রবার সন্ধ্যায় এই ভাষণে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দলকে পাওয়ার বিষয়ে আশার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত সকল দল আগামী সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবে।’

এই ভাষণের পর বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘সবাই একটি সমঝোতার যখন আশা করছে, তখন এ ধরনের বক্তব্যে সবাই হতাশ। নির্বাচন ইস্যুতে জাতির উদ্দেশে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেশকে আরেক দফায় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।’

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি-জামায়াত জোটের সহিংসতা ও নাশকতার চিত্র তুলে ধরে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির একটি হিসেব দিয়েছেন। দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘কোন কোন মহল আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা করতে পারে। আপনাদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।’

তবে মির্জা ফখরুল দাবি করেছেন, তারা নির্বাচনের জন্য নৈরাজ্য করেননি। তাদের আন্দোলন গণতান্ত্রিক ছিল দাবি করে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির জন্য সরকারি সংস্থাই অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করেছে।

ভাষণে সমাপ্ত এবং চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বর্ণনা এবং বিএনপি আমলের সঙ্গে তার আমলের তুলনামূলক একটি চিত্রও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন, দেশ এখন উন্নয়নের পথে।

এর প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে না, দুর্নীতির মহাসড়কে ওঠেছে।

এদিকে ভোটে সবাইকে পাওয়ার আশার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেছেন, ‘আমরা চাই নির্বাচনে যেতে। কিন্তু সেই পরিবেশ তো আগে সৃষ্টি করতে হবে। পরিবেশ সৃষ্টি না করলে এর দায় তো সরকারকেই নিতে হবে।’

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031