পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার   বৈঠক হতে পারে । দিল্লিতে  কাল সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন শেখ হাসিনা নিজেই। বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের এই ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে আসছেন বলে শুনেছি। তাঁর সঙ্গে আলাদা করে কথা বলার অপেক্ষায় আছি। দেখি আগামীকাল রাতে হয় কি না ? এই বৈঠকের দিকে সকলেরই নজর রয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানিযেছেন। স্বাভাবিকভাবেই তিস্তার পানি নিয়ে কথা হবে এই বৈঠকে। গঙ্গা ব্যারাজ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেছেন, আমি এটা করতে চাই। দুই বাংলার জনগণের স্বার্থে এবং ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেই করতে চাই। তিস্তা চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আমি সব সময় আশাবাদী। দেখি কী হয়। বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি ইতিমধ্যেই বলেছেন, বাংলাদেশ তিস্তার অর্ধেক পানি দাবি করবে। তবে মমতা দিল্লি আসার একদিন আগেই দিল্লি এসেছেন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব মলয়কুমার দে। শুক্রবারই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে তিস্তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি নৃপেন মিশ্রর সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে । সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব ভাস্কর খুলবেও। তিস্তার পাণিবণ্টন চুক্তি নিয়ে রাজ্যের আপত্তির জায়গাগুলি শুনে আশ্বাস দেয়া হয়েছে রাজ্যের সমস্যার ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করে সমাধান করা হবে। তিস্তা নিয়ে রাজ্য সরকারের বক্তব্য, সিকিমে অসংখ্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও ৮টি বড় বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। সিকিম এভাবে অপরিকল্পিত যথেচ্ছ বাঁধ দেয়ায়, শুষ্ক মওসুমে তিস্তায় জল থাকছে না। আবার বর্ষায় বাঁধ বাঁচাতে সিকিম জল ছাড়লে ভেসে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিঙের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন মমতা। প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। রাজ্য সরকারের অভিযোগ, মোদীর ঢাকা সফরের পরে এক বছরের বেশি কেটে গেলেও সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে এক সঙ্গে বসিয়ে তিস্তা নিয়ে কোনও বৈঠক করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সিকিমকেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়নি।

Share Now
May 2026
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031