পাবর্ত্য এলাকার পাহাড়ি সন্ত্রাসী কর্তৃক জিম্মি হওয়া ফটিকছড়ি উপজেলার নাছেহা চা-বাগানের ১৯ শ্রমিক পরিবারের ৭৪ জন সদস্য হতে ২৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বুধবার দিনভর অভিযান চালিয়ে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার গুজাপাড়া এলাকার গহীন পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ৫ পরিবারের ১৬ জনকে উদ্ধার করে। একই দিন রাতে জিম্মিদশা থেকে পালিয়ে আসেন আরো ৭ জন। সর্বমোট এযাবৎ ২৩ জন জিম্মি হতে মুক্ত হয়েছেন। এখনো ৫১ জন শিশু,নারী-পুরুষ সন্ত্রাসীদের জিম্মি অবস্থায় রয়েছে।

বিজিবি ৪৩ রামগড় সদর দপ্তরে কমান্ডিং অফিসার (সিও) জাহেদুল রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বন্দিরা যখন বিজিবিকে দেখতে পান, তারা হাওমাও করে কাঁদতে থাকেন। এ সময় তারা বলেন, আমাদের বাঁচান; না হয় তারা আমাদের মেরে ফেলবে।’

তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া লোকজনগুলোর অনাহারে অনেকটু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদেরকে প্রথমে বিজিবি রামগড় সদর দপ্তরে নিয়ে আসা হয়, সেখান থেকে রামগড় থানা পুলিশের সহায়তায় বাগান কর্তৃপক্ষকে তাদের সোপার্দ করা হয়।’


বিজিরি এ কর্মকর্তা আরো জানান, বৃহস্পতিবার (আজ) সকালেও রামগড়ের নাজিরমপাড়ায় বাকি জিম্মিদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে রাখা হয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাকিদের উদ্ধারে আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদেরকে গহীন পাহাড়ের ভেতর জিম্মি করে রাখা হয়েছে।’

নাছেহা চা-বাগানের ব্যবস্থাপক মুনির হায়দার জানান, বিজিবি কর্তৃক উদ্ধার হওয়া লোকজন ছাড়াও ৭ জন কৌশলে পালিয়ে এসেছেন। তারপরও তাদের মধ্যে একটি আতংক বিরাজ করছে।

উলে­খ্য, বাঙ্গালী মুসলিম ছেলের সাথে পাহাড়ি ত্রিপুরার মেয়ের পালিয়ে বিয়ের জের ধরে ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা নাছেহা চা-বাগানের ১৯ শ্রমিক পরিবারকে জিম্মি করে রাখে পাহাড়ি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের দাবী, পালিয়ে যাওয়া ত্রিপুরা মেয়েটিকে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত জিম্মিদের ছাড়বে না তারা।

Share Now
June 2026
M T W T F S S
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
2930