করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০১ জন ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ।

সোমবার পর্যন্ত আরও ৪৯২ জনের মধ্যে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে ২৯৪৮ জন হয়েছে। একই সময়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ১০ জন। এ পর্যন্ত মোট ৮৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে গত ৮ মার্চ। তার দশ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু। আজকের আগে একদিনে এত বেশি নতুন রোগী আক্রান্ত বাংলাদেশকে দেখতে হয়নি।

বুলেটিন উপস্থাপনকালে নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৭৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আরও ৪৯২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। ফলে করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৯৪৮ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১০ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১০১ জনে। এছাড়া সুস্থ হয়ে উঠেছেন আরও ১০ জন। ফলে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৮৫ জন।

নাসিমা সুলতানা আরও জানান, নতুন করে মৃত ১০ জনের মধ্যে পুরুষ আটজন এবং নারী দুজন। তাদের পাঁচজন ঢাকার, চারজন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন নরসিংদীর। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ১০ জনের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব চারজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব চারজন এবং চল্লিশোর্ধ্ব দুজন।

নতুন আক্রান্ত ৪৯২ জনের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ রোগী গাজীপুরের। কিশোরগঞ্জের ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নরসিংদীর রোগী ৬ শতাংশ। আগের মতোই বেশি রোগী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৫৭ জনকে। বর্তমানে মোট আইসোলেশনে আছেন ৭১৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৪০ জন। এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ৫৭৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টোইনে নেয়া হয়েছে ৩০ হাজার ৮০৯ জনকে। এ পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৬২৬ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টোইনে নেয়া হয়েছে ২৭০ জনকে। এ পর্যন্ত প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৮৮ জনকে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মোট কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩১ হাজার ৭৯ জনকে এবং এ পর্যন্ত নেয়া হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৯৪০ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার ৫৪৫ জন এবং এ পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৫হাজার ৮১২ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৭৫ হাজার ৭৪৭ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন চার হাজার ৬৫৫জন। সব মিলিয়ে বর্তমানে ৮০ হাজার ৪০২ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন।

বুলেটিনে ডা. নাসিমা সুলতানার সঙ্গে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শহীদুল্লাহ। তিনি পিপিইসহ চিকিৎসা সামগ্রী গ্রহণ এবং তা চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে বিতরণের তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দু-এক সপ্তাহের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালসহ সারাদেশের হাসপাতালে এন-৯৫-এর সমমানের মাস্ক সরবরাহ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে সরবরাহ সীমিত থাকায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরামর্শ অনুযায়ী নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও পিসিআর এবং কিছু হাসপাতালের ওয়ার্ডে এন-৯৫ সরবরাহ করা হচ্ছে। এখন দেশে প্রতিদিন এক লাখ উন্নতমানের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

Share Now
April 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930