৩ কোটি ৩৪ লাখ মানুষ গত বছর বিশ্বজুড়ে আভ্যন্তরীণভাবে নতুন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এ নিয়ে বিশ্বে মোট আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৮ লাখে। এর মধ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী ১ কোটি ৮৩ লাখ শিশু ও ৩৭ লাখ ষাটোর্ধ রয়েছেন। এদিকে, গত বছর বাংলাদেশে দুর্যোগে ঘরহারা হয়েছেন অন্তত ৪০ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ। বছর শেষ হওয়া পর্যন্ত দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত হিসেবে বাস করছিলেন ৮৮ হাজার মানুষ। একইভাবে গত বছর সংঘাত ও সহিংসতায় দেশজুড়ে বাস্ত্যচুত হয়েছেন ৫২০ জন। এ নিয়ে গত বছর পর্যন্ত দেশটিতে সংঘাত ও সহিংসতায় আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার মানুষ। নরওয়েজিয়ান শরণার্থী পরিষদের আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইডিএমসি) প্রকাশিত এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।  
খবরে বলা হয়, বৈশ্বিক হিসাবে একবছরে সর্বোচ্চ আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি হয়েছে গতবছর। ২০১৮ সালের হিসাবে, এক বছর অতিরিক্ত প্রায় ১ কোটি মানুষ ঘর হারিয়েছে। আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি নিয়ে ওই বৈশ্বিক প্রতিবেদন (গ্রিড) অনুসারে, গত বছর পর্যন্ত সহিংসতার কারণে বিশ্বজুড়ে আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত বা নিজদেশে শরণার্থী হয়েছেন ৪ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ। এর মধ্যে ৫০টি দেশে নতুন বাস্ত্যচ্যুতের সংখ্যা ৮৫ লাখ। এদিকে, দুর্যোগের কারণে ১৪০টি দেশে গতবছর ঘরহারা হয়েছেন ২ কোটি ৪৯ লাখ মানুষ। বছরের শেষদিন পর্যন্ত বিশ্বের ৯৫টি দেশে বাস্তুচ্যুত হিসেবে বাসকারীর সংখ্যা ছিল ৫১ লাখ।  
প্রতিবেদনটি অনুসারে, গতবছর সংঘাত ও সহিংসতায় সবচেয়ে বেশি বাস্তুচ্যুতির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যথাক্রমে সিরিয়া (১,৮৪৭,০০০), ডিআরসি (১,৬৭২,০০০), ইথিওপিয়া (১,০৫২,০০০), বুরকিনা ফাসো (৫১৩,০০০) ও  আফগানিস্তান (৪৬১,০০০)। অন্যদিকে, দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুতির তালিকার শীর্ষে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (৫,০১৮,০০০), ফিলিপাইন (৪,০৯৪,০০০), বাংলাদেশ (৪,০৮৬,০০০), চীন (৪,০৩৪,০০০) ও যুক্তরাষ্ট্র (৯১৬,০০০)।
আইডিএমসির পরিচালক আলেক্সান্দ্রা বিলাক বলেন, তিনি প্রত্যাশা করেছিলেন এ বছর আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির প্রতি আগের চেয়ে বেশি নজর দেবে বিশ্ববাসী। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তাতে বাগড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা খুব করে প্রত্যাশা করেছিলাম যে, এ বছর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় জেগে উঠবে।
বিলাক জানান, করোনা ভাইরাস আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের উপর কী প্রভাব ফেলবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই মহামারির কারণে ভবিষ্যতে এই বাস্তুচ্যুতদের প্রতি সহায়তা কমার আশঙ্কা করেছেন তিনি। বিলাক বলেন, আমরা যদি অর্থনৈতিক মন্দায় পড়ি, তাহলে নিশ্চিতভাবেই সরকারি সহায়তা হ্রাস পাবে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনটি অনুসারে, বেশিরভাগ নতুন আভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে দরিদ্র দেশগুলোতে। সবচেয়ে বেশি এমন বাস্তুচ্যুতি দেখা গেছে সাব-সাহারা আফ্রিকাতে। সেখানে সাহেল অঞ্চল নিয়ে সহিংসতা বেড়েই চলেছে। এছাড়া, সোমালিয়া ও দক্ষিণ সুদানে চলমান সহিংসতাও অনেককে ঘরহারা করেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলগুলোয় মৌসুমি ঝড় ও বর্ষার বৃষ্টির কারণে ঘরহারা হয়েছেন লাখো মানুষ। বাংলাদেশ, ভারত, ফিলিপাইন ও চীনের প্রতিটি দেশে ৪০ লাখ করে মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031