করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা গত ৪৮ ঘন্টায় ৩৩ থেকে বেড়ে ৪৮-এ দাঁড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গে । রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত ৪৮ ঘন্টায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বলা হয়েছে, শুক্রবার মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের এবং শনিবার মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। তবে এদিন কোমর্বিডিটিতে করোনা আক্রান্তের কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা নতুন করে জানানো হয়নি। আগের ঘোষণা অনুযায়ী মোট ৭২ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে কোমর্বিডিটির (অন্যান্য রোগভোগ) কারনে। সেই হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে শনিবার পর্যন্ত মোট ১২০ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। শনিবারের বুলেটিনে মোট আক্রান্তের কোনও হিসেবে দেওয়া হয়নি। শুধু জানানো হয়েছে, শুক্রবার নতুন করে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৭, শনিবার সেই সংখ্যা ৭০।

তবে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দফতরের তরফে মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছিল, ওই দিন পর্যন্ত রাজ্যে ‘অ্যাক্টিভ কেসে’র সংখ্যা ৫৭২টি। কিন্তু সেদিনই রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব বিবেক কুমার এক চিঠিতে কেন্দ্রীয স্বাস্থ্য সচিবকে জানিয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে রেড এবং অরেঞ্জ জোনে ‘কেস রিপোর্ট’ হয়েছে মোট ৯৩১টি। পরিসংখ্যানের এই ফালাক নিয়ে রাজ্যরাজনীতিতে জোর সোরগোল তৈরি হয়েছে। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় মুখ্যমন্ত্রীকে একাধিক চিঠিতে বলেছেন, কোভিড-১৯ নিয়ে তথ্য ধাপাচাপা দেওয়ার বদলে মুখ্যমন্ত্রী স্বচ্ছ ভাবে সব কিছু প্রকাশ করুন। রাজ্যপাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজ নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন। শনিবার সকালে রাজ্যপাল তার টুইটে করোনার তথ্য গোপনের অভিযোগের পাশাপাশি বিরোধীদের মুখ্যমন্ত্রীর শকুন বলে মন্তব্য এবং সংবাদমাধ্যমকে মুখ্যমন্ত্রীর ‘সঠিক আচরণ’ করার কথা নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। রেশন দুর্নীতি নিয়েও তিনি সরকারকে খোঁচা দিতে ছাড়েন নি। অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার সন্ধ্যায় ১৩ পাতার এক চিঠি দিয়ে রাজ্যপালকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। রাজ্যপালের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। তার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেছেন, স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে আর কোনও রাজ্যপাল রাজ্যেও মুখ্যমন্ত্রীকে এমন ভাষায় চিঠি লেখার নজির রয়েছে বলে জানা নেই। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের কাজে নাক গলানোর অভিযোগ করেছিলেন। বিরোধীরাও রাজ্যপালের আচরণকে ভালভাবে নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যপাল রাজভবনে বসে বিজেপির রাজনীতি করছেন। একই অভিযোগ করে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও বলেছেন, নিজের কর্তব্য ভুলে গিয়ে রাজ্যপাল রাজনীতি করছেন এবং তিনি বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন। তবে রাজ্য বিজেপি নেতাদের মতে, রাজ্যপাল তার দায়িত্ব সঠিকভাবেই পালন করে চলেছেন।

Share Now
July 2026
M T W T F S S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031